নিউইয়র্কের কুইন্সে সড়ক দূ"র্ঘ"ট"নায় প্রাণ গেলো ঢাকাদক্ষিণের মেয়ে নিশাতের।

ডেস্ক রিপোর্ট :: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইডে রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ আর ৬২ স্ট্রিটের মোড়ে একটি কেক হাতে ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে ট্রাক চাপায় মারা গেছেন ১৯ নিশাত জান্নাত নামে এক তরুণী। জানা যায়,কাজ শেষে ট্রেন থেকে নেমে, বাড়ি ফিরছিলেন — ছোট বোনের জন্য কেক হাতে নিয়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে পশ্চিমমুখী রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ধরে আসা রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেসের একটি বিশালাকার গারবেজ ট্রাক ডান দিকে মোড় নিতে গিয়ে ক্রসওয়াকে পা রাখা নিশাতকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই ইএমএস কর্মীরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি ছিল মাত্র দশ মিনিটের হাঁটাপথ দূরে, ৫৫তম স্ট্রিটে।

নিশাতের চাচা জামাল আহমেদ শিমু সোমবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিবারের উডসাইডের বাড়িতে বিলাপ চলছে, নিশাতের বাবা-মা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। “ঘরের ভেতর সবাই কাঁদছেন। কিছুই আর আগের মতো নেই।”

নিশাত জান্নাত ছিলেন জ্যামাইকার পারসন্স বুলেভার্ডে একটি পার্কিং গ্যারেজের পার্ট-টাইম রিসেপশনিস্ট। কালো ইউনিফর্ম পরে প্রতিদিন কাজে যেতেন। রোববার রাত ১১টার দিকে কাজ শেষে ট্রেনে উঠলেন, উডসাইড স্টেশনে নামলেন। বাড়ি ফেরার আগে ভাবলেন, ছোট বোনের জন্য কেক নিয়ে যাই। সেই ভাবনাটুকুই তার শেষ ভাবনা হয়ে গেল।

নিশাতরা চার বোন ছিলেন। দুটি ছোট—একজনের বয়স ৯, আরেকজনের মাত্র ৪। যে ছোট বোনের জন্য কেক আনতে বেরিয়েছিলেন, সে আজ আর তার দিদিকে ফিরে পাবে না।

নিশাতের বাবা হেলাল আহমদ উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম। যে মানুষটি প্রতিদিন মুসল্লিদের সান্ত্বনা দেন, আজ তার নিজের বুকের মানিক চলে গেছে। পরিবারটি ২০১৭ সালে অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাদের দেশের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণের রায়গড় গ্রামে। 

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড ঘটনাটি তদন্ত করছে। ট্রাকটির চালক, ৩৮ বছর বয়সী এক নারী, ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং সামান্য আঘাতের জন্য চিকিৎসা নেন। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

নিশাতের জানাজা মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে নিউজার্সির মুসলিম কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সূত্র:প্রথম আলো 


নবীনতর পূর্বতন